শনিবার ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

দিনাজপুরের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ

মিনাজুল ইসলাম, আলোকিত বগুড়া   মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
358 বার পঠিত
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক নয়াবাদ মসজিদ

দিনাজপুর থেকে ফিরে মিনাজুল ইসলাম: দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়াবাদ মিস্ত্রিপাড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক এই নয়াবাদ মসজিদ। মসজিদটি জেলা শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং উপজেলা সদর থেকে ৮কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম কোণে ঢেপা নদীর পশ্চিম কোলঘেঁষে ১ দশমিক ১৫ বিঘা জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে চলছে উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ।

মসজিদের প্রবেশপথে স্থাপিত শিলালিপি অনুসারে নয়াবাদ মসজিদ ২ জ্যৈষ্ঠ ১২০০ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণ করা হয়। তখন মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের রাজত্বকাল।


মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণে একটি করে জানালা রয়েছে। দরজা-জানলার খিলান একাধিক খাঁজযুক্ত। যার ভেতরে পশ্চিমাংশে আছে তিনটি মেহরাব। মাঝের মেহরাবের তুলনায় দু’পাশেরগুলো একটু ছোট। মাঝের মেহরাবের উচ্চতা ২ দশমিক ৩০মিটার ও প্রস্থ ১দশমিক ৮মিটার। মসজিদ জুড়ে আয়তাকার বহু পোড়ামাটির ফলক রয়েছে। পোড়ামাটির নকশাগুলো বহু জায়গায় আবার খুলে পড়েছে। ফলকগুলোর আয়তন দশমিক ৪০ মিটার দশমিক ৩০ মিটার। ফলকগুলোর মধ্যে লতাপাতা ও ফুলের নকশা রয়েছে। এরূপ মোট ১০৪টি আয়তাকার ফলক রয়েছে। তবে ফলকের মধ্যে অলংকরণের অনেকটাই প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত।

আয়তাকার মসজিদটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট। এর চারকোণায় রয়েছে চারটি অষ্টভূজাকৃতির টাওয়ার। বাইরের দিক থেকে মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৪৫ মিটার ও প্রস্থ ৫ দশমিক ৫ মিটার। দেয়ালের প্রশস্ততা ১ দশমিক ১০ মিটার। মসজিদে প্রবেশের জন্য পূর্বদিকে রয়েছে তিনটি খিলান।মাঝের খিলানের উচ্চতা ১ দশমিক ৯৫ মিটার, প্রস্থ ১ দশমিক ১৫ মিটার।পাশের খিলানদ্বয় সমমাপের এবং অপেক্ষাকৃত ছোট।


প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর নয়াবাদ মসজিদের অনেক অংশ সংস্কার করে চারপাশ ঘিরে দেয়াল দিয়েছে। মসজিদ এলাকায় পর্যটকদের জন্য করা হয়েছে উন্মুক্ত। এতে সংযোগ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ লাইন, স্থাপন করা হয়েছে সোলারও।

স্হানীয়রা জানান, নয়াবাদ মসজিদ এই এলাকা সবচেয়ে প্রাচীনতম। প্রাচীনতম ইতিহাস বহনকারী নয়াবাদ মসজিদ এখন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে দেশজুড়ে। বছর জুড়ে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক দেখতে ও জানতে আসেন মসজিদের প্রাচীন ইতিহাস। বর্তমানে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোড়দার করা হয়েছে।সার্বক্ষণিক রয়েছে পুলিশের টহল দল।


পর্যটক ও সমাজকর্মী ডাঃ ওমর ফারুক খান বলেন, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হলে, আমাদেরকে দেশের ঐতিহাসিক স্হানগুলো ঘুরে দেখা দরকার। এই ঐতিহাসিক স্থানগুলো সংস্কার করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশের ইতিহাস জানতে পারবে। আমি প্রতিবছর দেশের ইতিহাস সমৃদ্ধ স্থানগুলো ভ্রমণ করে থাকি।

Facebook Comments Box

Posted ৮:৩৯ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

Alokito Bogura |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১

উপদেষ্টা সম্পাদক
শহিদুল ইসলাম সাগর
চেয়ারম্যান, বিটিইএ

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক
এম.টি.আই স্বপন মাহমুদ

বার্তা, ফিচার ও বিজ্ঞাপন:
+৮৮০ ১৭৫০ ৯১১ ৮৪৫
ইমেইল: alokitobogura@gmail.com

বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এসোসিয়েশন কর্তৃক নিবন্ধিত।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
error: Content is protected !!